রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন
দৌলতদিয়া বাসডুবি: ২৪ মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিনজনের লাশ, যার মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সংরক্ষিত আছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের তালিকা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শোক

উদ্ধারকৃত ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার ও তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান। এছাড়াও কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের রাজীব বিশ্বাস, এবং রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের জহুরা অন্তি ও কাজী সাইফের মতো স্থানীয় বাসিন্দারা। গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের মর্জিনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকটি শিশুও প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সন্তান ইস্রাফিল, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর, এবং রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের শিশু সন্তান তাজবিদ। এছাড়াও গাড়িচালক আরমান খান, নাজমিরা ওরফে জেসমিন, লিমা আক্তার, জোৎস্না, মুক্তা খানম, নাছিমা, আয়েশা আক্তার, সোহা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা, আরমান, আব্দুর রহমান, এবং সাবিত হাসান (৮) সহ অন্যান্যরা নিহত হয়েছেন। উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ীও এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

গত বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এবং প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে বাসযাত্রী ও কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সম্প্রদায়ে।

বাস দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন গতকাল মধ্যরাতে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক, এবং গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য সহায়তা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই পদক্ষেপ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও উদ্ধার কাজে ও শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।

এই দুর্ঘটনা পদ্মা নদীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা underscored করেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আশা করা হচ্ছে যে এটি দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়ক হবে।