পদ্মা নদীতে বাসডুবি: নিহত বেড়ে ২৪, উদ্ধার অভিযান চলছে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এক যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকালে ঘটনাটি ঘটে এবং কর্তৃপক্ষের জোরালো উদ্ধার অভিযানের পর তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় ও লাশ হস্তান্তর
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬ জনের লাশ ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনার মাত্রা আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্র অনুযায়ী, বাসটি নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। উদ্ধারকারী দল জানায়, একপর্যায়ে বাসটি একটি পন্টুনের নিচে আটকে যায়, যা উদ্ধার কাজকে জটিল করে তোলে। বিশেষজ্ঞ দল একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বাসটি ওপরে তুলে আনে। এই প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল।
যাত্রী সংখ্যা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে, দুর্ঘটনার সময় প্রায় ১১ জন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, যা কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে আনে। ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যাতে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং অন্যান্য সংস্থা অংশগ্রহণ করে।
নিহতদের তালিকা
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
- রেহেনা আক্তার (৬১), রাজবাড়ী পৌরসভা
- মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া পৌরসভা
- রাজীব বিশ্বাস (২৮), কুষ্টিয়া সদর
- জহুরা অন্তি (২৭), রাজবাড়ী পৌরসভা
- কাজী সাইফ (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভা
- মর্জিনা আক্তার (৩২), গোয়ালন্দ
- ইস্রাফিল (৩), কুষ্টিয়া
- সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), গোয়ালন্দ
- ফাইজ শাহানূর (১১), কালুখালী
- তাজবিদ (৭), রাজবাড়ী পৌরসভা
- আরমান খান (৩১), বালিয়াকান্দি (বাস চালক)
- নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), কালুখালী
- লিমা আক্তার (২৬), রাজবাড়ী সদর
- জোস্ন্যা (৩৫), রাজবাড়ী সদর
- মুক্তা খানম (৩৮), গোপালগঞ্জ
- নাছিমা (৪০), দিনাজপুর
- আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), ঢাকা
- সোহা আক্তার (১১), রাজবাড়ী পৌরসভা
- আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), কুষ্টিয়া
- আরমান (৭ মাস), ঝিনাইদহ
- আব্দুর রহমান (৬), কালুখালী
- সাবিত হাসান (৮), রাজবাড়ী সদর
- আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), রাজবাড়ী সদর
এছাড়া, এখনো একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি, যা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও তদন্ত
এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি ফেরিঘাট এলাকায় পড়ে যাওয়ার পিছনে সম্ভবত যান্ত্রিক ত্রুটি বা চালকের ভুল থাকতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং উদ্ধার কাজের গতি বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে। এই ঘটনা দেশের নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



