রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা বেড়ে ২৩
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল এই লাশগুলো উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায়, এবং এরপর থেকেই চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।
উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাহায্যে বৃহস্পতিবার ভোর রাত ১২:৩০টার দিকে নদী থেকে ডুবে যাওয়া বাসটি তোলা হয়। বাসটি তোলার আগ পর্যন্ত ১৬টি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও সাতটি লাশ পাওয়া যায়, যা মোট উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৩-এ নিয়ে আসে।
উদ্ধারকৃত সব লাশই ইতিমধ্যে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনরা ফেরিঘাটে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে, যা ঘটনাটির মর্মান্তিক দিকটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
দৌলতদিয়া ফেরি টার্মিনালের পরিবহন সুপারভাইজার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, শৌর্যর্দা পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসটি বুধবার সন্ধ্যা ৫টার পরপরই ঘাট নম্বর ৩-এ পৌঁছায়। তখন একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে, এবং বাসটি পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল।
মনির হোসেন বলেন, "প্রায় সন্ধ্যা ৫:১৫টার দিকে, হাসনা হেনা নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি জোরে পন্টুনে ধাক্কা মারে। এই ধাক্কার ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।" এই বিবরণ থেকে দুর্ঘটনার সরাসরি কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
উদ্ধার ও তদন্তে জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ
দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের দল কাজ করছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত রয়েছেন:
- ডেপুটি কমিশনার
- সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ
- গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার
তাদের উপস্থিতি উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করছে বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং নিরাপদ যাত্রার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



