পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: মায়ের সাহসিকতায় বেঁচে গেল আট বছরের শিশু
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে পদ্মা নদীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী আলিফ মায়ের সাহসিকতায় প্রাণে বেঁচে গেছে, কিন্তু তার মা জ্যোৎস্না বেগম এখনও নিখোঁজ। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
মায়ের সাহসিকতা: জানালা দিয়ে বের করে দেওয়া
আলিফ বর্ণনা করে, “যখন বাস ফেরিতে উঠছিল, তখন হঠাৎ করে উল্টে যায়। বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছি। আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়।” সে সাঁতার কেটে উপরে উঠতে সক্ষম হয়, কিন্তু তার মাকে আর খুঁজে পায় না। আলিফের নানি সাহেদা বেগম জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়। তিনি বলেন, “জ্যোৎস্নাকে আমি বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, ‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনো কথা শুনি নাই। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেল।”
উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি: এখনও অনিশ্চয়তা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসতে সক্ষম হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, ওই বাসে মোট কতজন ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়, যা একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে।
এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে আছেন, বিশেষ করে আলিফ ও তার নানি, যারা জ্যোৎস্না বেগমের খোঁজে ব্যাকুল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। এই দুর্ঘটনা ঈদের ছুটিতে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



