পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩, উদ্ধার অভিযান সফল
পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: মৃত ২৩, উদ্ধার সম্পন্ন

পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩, উদ্ধার অভিযান সফল

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জোরালো অভিযানের ফলাফল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পালের বরাতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, চার জন পুরুষ এবং আট জন শিশু রয়েছেন।

হাসপাতালে লাশ হস্তান্তর ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ইতিমধ্যে ১৬ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইটি মরদেহ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে প্রকাশ, বাসটি নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে এটি একটি পন্টুনের নিচে আটকে পড়ে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় বাসটি ধীরে ধীরে ওপরে তুলে আনা হয়।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জন যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ জোরালো অভিযান শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়। এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থল ভারী হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার এখনও নিখোঁজদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে, যা এই ট্র্যাজেডির গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতদের তালিকা ও স্থানীয় প্রভাব

নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনার ব্যাপকতা তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, রেহেনা আক্তার (৬১), রাজীব বিশ্বাস (২৮), এবং মাত্র সাত মাস বয়সী আরমানের মতো শিশুরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত গভীর, কারণ এটি কেবল রাজবাড়ী নয়, পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, এবং দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোকেও প্রভাবিত করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন উদ্ধারকাজ পরবর্তী তদন্ত ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।