পদ্মা নদীতে বাসডুবি: উদ্ধারকাজে জড়িয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাহায্যে বাসটি টেনে তোলা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেন।
উদ্ধারকাজের সময়রেখা ও মৃতের সংখ্যা
বুধবার রাত সোয়া এগারোটার দিকে বাসের একটি অংশ দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে তোলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানানো হয়, এ পর্যন্ত ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে তিনজন শিশু, ছয়জন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন।
এই ঘটনায় এর আগে আরও দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও যাত্রীসংখ্যা
বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। ঢাকার উদ্দেশে বাসটির ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন। এরপর একে একে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টার মাস্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তিনি দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন এবং তাকে অবগত করতে বলেছেন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এই কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন।
চাক্ষুস সাক্ষীর বর্ণনা
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা আবদুস সালাম নামের এক যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সড়কে বাসটি দাঁড়ানো ছিল। ফেরি এসে ঘাটে ভেড়ামাত্র হঠাৎ বাসটি চলতে শুরু করে সরাসরি নদীতে চলে যায়। চালক অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। আবদুস সালাম বাস থেকে নেমে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে যান।
এই দুর্ঘটনা রাজবাড়ী ও ঢাকা বিভাগের জন্য একটি বড় দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উদ্ধারকাজে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।



