রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, ১১ জনের লাশ পাওয়া গেছে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচ থেকে বাসটি তোলার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একের পর এক লাশ বের করতে থাকে। এখন পর্যন্ত মোট ১১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় ও স্থান
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় এটি নদীতে পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে বিলম্ব ও উত্তেজনা
দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামজা ঘটনাস্থলে আসতে এক ঘণ্টা সময় নেয়, যদিও দুই মিনিটের পথ ছিল। এরপর জাহাজের অবস্থান নির্ণয় ও টানতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হয়। স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে দেরিতে উদ্ধারকাজ শুরু করার কারণে।
যাত্রী সংখ্যা ও উদ্ধার পরিস্থিতি
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টার তন্ময় শেখ বলেন, বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যদিও এটি ৪৫ সিটের। যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে উঠেছিলেন, এবং ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমে যান। ফলে নদীতে পড়ার সময় সঠিক যাত্রী সংখ্যা নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন সাঁতরে ঘাটে উঠেছেন এবং একজন নারী চিকিৎসক নুসরাত (২৯) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
দুর্ঘটনার কারণ
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ছোট ফেরি সজোরে পন্টুনে আঘাত করায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি একটি ফেরিতে উঠতে না পেরে অপেক্ষা করছিল, তখন এই ঘটনা ঘটে।
এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা মিলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে তৎপর রয়েছে।



