পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা: উদ্ধারকাজ অব্যাহত, ছয় লাশ উদ্ধার
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হলে, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একের পর এক লাশ বের করতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত বাস থেকে মোট ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে চার জনের লাশ রাতের দিকে এবং দুজনের লাশ সন্ধ্যায় উদ্ধার হয়।
জীবিত উদ্ধার ও নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজ
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি বাস থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। তবে এখনও অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। রোকন নামের এক ব্যক্তি জানান, তার ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদ বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শরিফুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য বাসে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও, সাত বছরের ছেলেসন্তান ও ১১ বছর বয়সের ভাগ্নে নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজে দেরি
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার সময় দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা থাকলেও, তা ঘটনাস্থলে আসতে এক ঘণ্টা সময় নেয়। এরপর জাহাজের অবস্থান নির্ণয় ও টানতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যায়, এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হয়। রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি থামলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
যাত্রী সংখ্যা ও বাসের গতিপথ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের এই বাসটি প্রতিদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছয় জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে, এবং পথে খোকসা, মাছপাড়া, পাংশা ও গোয়ালন্দ ঘাটে আরও যাত্রী ওঠেন। কাউন্টার মাস্টার মো. তন্বয় শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৫ সিটের বাসে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যদিও ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমে যাওয়ায় নদীতে পড়ার সময় সঠিক যাত্রী সংখ্যা নিশ্চিত নয়।
দুর্ঘটনার কারণ
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকাল ৫টার কিছু পর বাসটি ঘাটে আসে এবং একটি ফেরি ছেড়ে যাওয়ায় অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ছোট ফেরি সজোরে পন্টুনে আঘাত করে, যার ধাক্কায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
এখন পর্যন্ত সাত-আট জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত ও উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে।



