ঝিনাইদহের পাঁচ নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু: কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে এক পরিবারের তিন সদস্যসহ নিহত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের সদস্য, যা স্থানীয় গ্রামগুলোতে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসার কারণ হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের করুণ আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে, আর্তনাদে প্রকম্পিত হয়েছে আশপাশের এলাকা।
দুর্ঘটনার সময় ও স্থান
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন প্রাণ হারান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহত ও নিহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু ঝিনাইদহের পাঁচ নাগরিকের মৃত্যু বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঝিনাইদহের নিহতদের পরিচয়
ঝিনাইদহ জেলার নিহত পাঁচ জনের তালিকা নিম্নরূপ:
- মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭ বছর)
- লাইজু খাতুনের দুই শিশুকন্যা খাদিজা (৫ বছর) ও মরিয়ম (৩ বছর)
- ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০ বছর)
- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন
এই পাঁচ জন ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে রবিবার ভোরবেলা ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে করে নোয়াখালী জেলায় আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তাদের যাত্রা আকস্মিকভাবে থেমে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
পরিবারের করুণ গল্প
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু হোসেন ছিলেন মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। পিন্টুর শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত, এবং ওই গাড়িতেই তার পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন, কিন্তু গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই শিশু কন্যা ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হন, যা গোটা এলাকার মানুষকে শোকে মুহ্যমান করে দিয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তিনি এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন এবং লাশ বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ বাড়ি পৌঁছাতে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে পরিবারগুলো এই দুঃসময়ে কিছুটা স্বস্তি পায়।
এই ঘটনা রেলক্রসিং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হচ্ছে। ঝিনাইদহের গ্রামগুলোতে শোকের মাতম চলছে, আর নিহতদের স্বজনরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।



