কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝিনাইদহের মহেশপুরে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন কুমিল্লায় সংঘটিত একটি বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন ব্যক্তি। নিহতদের পরিবারে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে তদন্ত ও সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মহেশপুর পৌরশহরের পাতিবিলা গ্রামের বিলাপাড়ার পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৮), তাদের দুই কন্যা খাদিজা খাতুন (৬) ও মরিয়ম খাতুন (৪)। এছাড়াও ভালাইপুর গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী সোনালী বেগম (৪৫) এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনামুল হক এবং তার দুই নাতি। তারা বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
নিহত লাইজু আক্তারের চাচাশ্বশুর শাহাজান আলী জানান, শনিবার লক্ষ্মীপুরে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পিন্টু হোসেন তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা হন। তারা মামুন পরিবহণের একটি বাসে উঠেন এবং ঢাকা পৌঁছানোর পর পিন্টু হোসেন নেমে যান। তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয় ওই বাসেই। রোববার ভোরে পরিবারটি খবর পায় যে কুমিল্লায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে লাইজু আক্তার ও তার দুই কন্যা মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, পিন্টু হোসেন মামুন পরিবহণের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, ভালাইপুর গ্রামের এনামুল হক তার স্ত্রী ও নাতিদের নিয়ে নোয়াখালীর আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী সোনালী বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এনামুল হক ও তার দুই নাতি গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা
রোববার দুপুরে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক ও রেলপথ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



