ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, নবীগঞ্জে শোকের ছায়া
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ঈদের দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বছরের শিশু মিম আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে উপজেলার সালামতপুর পেট্রল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউন্দা ইউনিয়নের কুরাগাঁও গ্রামের রিপন মিয়ার মেয়ে মিম আক্তার গত এক মাস ধরে নানাবাড়ি সালামতপুরে অবস্থান করছিল। ঈদের দিন বিকালে রাস্তা পারাপারের সময় নবীগঞ্জ থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার তাকে ধাক্কা দেয়, যা তৎক্ষণাৎ মারাত্মক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে শিশুটিকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে প্রবল শোকের ঢেউ বয়ে গেছে, বিশেষ করে ঈদের আনন্দমুখর দিনে এমন দুর্ঘটনা আরও বেশি মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি আটক করা হয়েছে; তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশ এখন চালককে খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ওসি মোনায়েম মিয়া আরও উল্লেখ করেন, "এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় জনগণ ও যানবাহন চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছি।" তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন যে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালামতপুর এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।
- স্থানীয়রা বলছেন, এই রাস্তায় প্রায়ই যানবাহনের দ্রুতগতি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- পথচারী ক্রসিং বা স্পিড ব্রেকারের অভাবও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
- ঈদের মতো উৎসবের দিনে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সতর্কতা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো সম্প্রদায়কে কাঁদিয়েছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গণসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। শিশু মিম আক্তারের আত্মার শান্তি কামনা করে স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চাইছেন।



