ঈদে বেড়াতে গিয়ে জাদুকাটা নদীতে নৌকাডুবি: মাদ্রাসাছাত্রী সুফিয়ার মৃত্যু
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাদুকাটা নদীতে পর্যটকবাহী একটি খেয়া নৌকা ডুবে ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী সুফিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটি মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শনিবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে শিশুসহ কমপক্ষে ৮০ জন যাত্রী নিয়ে তাহিরপুরের জাদুকাটা নদীর লাউরগড় বাজার ঘাট থেকে শিমুল বাগান ঘাটের উদ্দেশ্যে খেয়া নৌকাটি (খোলা ট্রলার) ছেড়ে যায়। মাঝ নদীতে পৌঁছার পূর্বেই নৌকার ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ ও অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় নৌকাটি দ্রুত তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা পর্যটক, নারী ও শিশুরা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।
কেউ কেউ নিজেদের চেষ্টায় আবার অনেকেই অন্যের সহযোগিতায় তীরে উঠলেও মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি বেড়াতে যাওয়া নৌকায় থাকা শিশু সুফিয়া পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। আধঘণ্টা পর নিখোঁজ শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
শিকার ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
মৃত সুফিয়া (১০) উপজেলার লাউরগড় গ্রামের সতু মিয়ার শিশু মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী বলে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় শিশুর সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেছে বলে নিশ্চিত করেন থানার এসআই দীপক দাশ।
শনিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুরের লাউরগড়-শিমুলবাগান খেয়া ঘাট তদারকিতে থাকা উপজেলার পৈলনপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়দর মিয়া বলেন, "খেয়া ঘাটটি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাদাঘাটের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাকাব উদ্দিন।"
ইজারাদারের বক্তব্য
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাকাব উদ্দিন বলেন, "ওই খেয়াঘাটের ইজারাদার আমি নই। জেলা পরিষদ থেকে অন্য একজনকে ইজারা দেওয়া ঘাটটির খাস কালেকশান আদায়ের জন্য সহযোগিতা করেছি। খেয়া নৌকা পাড়ে ভিড়তেই লোকজন দ্রুত উঠে যায়; যে কারণে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের ছাপ দেখা গেছে। নৌকাডুবির কারণ হিসেবে অতিরিক্ত যাত্রী ও নৌকার ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



