ঈদের দিন নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদে মর্মান্তিক ঘটনা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদে খেয়া নৌকা ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেলে এই দুর্ঘটনায় সুফিয়া বেগম (১০) নামের শিশুটি প্রাণ হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে ঈদের দিন পরিবারে আনন্দের পরিবর্তে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সুফিয়া বেগম তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় গ্রামের সতু মিয়ার মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, যাদুকাটা নদের পূর্বপাড়ে লাউড়েরগড় ও পশ্চিমপাড়ে মানিগাঁও গ্রাম অবস্থিত। মানিগাঁও গ্রামে সুফিয়ার নানাবাড়ি ছিল। আজ বিকেলে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে সুফিয়া নানাবাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল।
এ জন্য তারা যাদুকাটা নদের লাউড়েরগড়-শিমুলবাগান এলাকায় খেয়া পারাপার হচ্ছিল। কিন্তু নৌকায় অতিরিক্ত মানুষ ওঠায় সেটি নদের মাঝখানে গিয়ে একদিকে হেলে ডুবে যায়। এতে অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠলেও সুফিয়া নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘণ্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হান্নান বলেন, “সুফিয়া তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় খেয়া নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিলেন। নৌকাটি একপর্যায়ে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন গিয়ে অনেককে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় সুফিয়ার মৃত্যু হলেও তার দুই ছোট ভাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক দাস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “ঈদের দিন হওয়ায় নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।” পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিরাপদ নৌপরিবহনের দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু সুফিয়ার পরিবার এখন শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে, এবং স্থানীয় সম্প্রদায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনা নৌপরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে যখন যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



