ভোলার মেঘনায় ট্রলারডুবি: দুই ঘণ্টা সাঁতার কেটে বাবার লাশ উদ্ধার করলেন দুই ছেলে
ভোলায় ট্রলারডুবি: দুই ঘণ্টা সাঁতারে বাবার লাশ উদ্ধার

ভোলার মেঘনায় ট্রলারডুবি: দুই ঘণ্টা সাঁতার কেটে বাবার লাশ উদ্ধার করলেন দুই ছেলে

ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবিতে এক জেলে নিহত হয়েছেন। পরে তার দুই ছেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতার কেটে বাবার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকালে চরপাতিলা বয়ার চর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জেলে নুরে আলম ওরফে বেচু মাঝি (৬৫) চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নের চর ফারুকী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত মজিবল হকের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

নিহতের ছেলে শাহীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি, তার বাবা বেচু মাঝি এবং ভাই সাকিল মিলে মাছ ধরতে নদীতে যান। শুক্রবার বিকালে হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলে তাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় বেচু মাঝি ট্রলারের নিচে চাপা পড়ে পানিতে ডুবে যান এবং আর উঠতে পারেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাহীন আরও বলেন, "আমার ভাই সাকিল জালের বয়া ধরে পানিতে ভেসে থেকে প্রাণে বেঁচে যান। কিছুক্ষণ পর বাবার মরদেহ ভেসে উঠলে আমরা তাকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতার কেটে চরপাতিলা নদীর তীরে নিয়ে আসি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত প্রায় ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়।"

পরিবারের করুণ অবস্থা

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন ও শাহীন পিটার জানান, বেচু মাঝি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তার ৯ সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে ৩০ বছর বয়সি এক প্রতিবন্ধী মেয়েও আছেন। তারা সরকার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

দক্ষিণ আইচা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, "নিহত জেলে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। মৎস্য বিভাগ সবসময় তাদের পাশে থাকবে।"

এ দুর্ঘটনা ভোলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।