কালবৈশাখীর মৌসুমে ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
দেশে কালবৈশাখীর মৌসুম শুরু হয়েছে, যার প্রভাবে ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে, যা এই মৌসুমের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঈদের দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় জানান, ঈদুল ফিতরের দিনটি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শুক্রবারের পরিবর্তে যদি শনিবার ঈদ উদযাপিত হয়, সেদিন সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, মার্চ ও এপ্রিল মাস সাধারণত কালবৈশাখীর সময় হিসেবে চিহ্নিত, এই সময়কালে ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার মধ্যে প্রথম তিন দিনে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা ও প্রভাব
সংস্থাটির প্রদত্ত তথ্যমতে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। এই দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নলিখিত বিভাগগুলিতে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে:
- রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা
- রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি জায়গা
এই সময়কালে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিস্তারিত দিনভিত্তিক পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশদ পূর্বাভাস নিম্নরূপ:
- শুক্রবার: দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
- শনিবার (ঈদের সম্ভাব্য দিন): রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে।
- রোববার: বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
- সোমবার: কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের সময়সীমায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গ্রীষ্মের আগমনী সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সর্বশেষ আবহাওয়া তথ্য
গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাঙামাটিতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরিচায় ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়কালে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও আরিচায় পরিমাপ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৫৮ মিলিমিটার।
এই অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ জনগণকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে যারা ঈদের দিনে বাইরে যাত্রা বা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালবৈশাখীর এই মৌসুমে আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।



