ঝড়ে আটকা যাত্রীবাহী লঞ্চ: হাতিয়ার উদ্দেশে সুগন্ধা ডুবোচরে, ৭০-৮০ জন আটকা
ঝড়ে আটকা সুগন্ধা লঞ্চ: হাতিয়ার উদ্দেশে ডুবোচরে ৭০-৮০ জন

ঝড়ের কবলে সুগন্ধা লঞ্চ: হাতিয়ার উদ্দেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবোচরে আটকা, ৭০-৮০ জন যাত্রী বিপদে

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমবি সুগন্ধা একটি প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে উঠে গেছে। এই দুর্ঘটনায় লঞ্চে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সবাই চরে আটকা পড়েছেন, যার ফলে একটি গুরুতর মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সময় ও স্থান: মঙ্গলবার ভোর চারটায় মেঘনা নদীতে

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর চারটার দিকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মজু চৌধুরীর ঘাটের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে এই ঘটনা ঘটে। বিকেল পর্যন্ত লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আটকা পড়া যাত্রীরা, যা তাদের উদ্বেগ ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

যাত্রীদের বর্ণনা: হঠাৎ ঝড়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান

লঞ্চে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বিমান চন্দ্র আচার্য। তিনি বলেন, হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং লঞ্চটি বগার চর নামের একটি ডুবোচরে উঠে পলিতে আটকে যায়। লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা নারী-শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উদ্ধার প্রচেষ্টা: জোয়ারেও লঞ্চ সরানো যায়নি

বিমান চন্দ্র আচার্য আরও জানান, দুপুরে জোয়ার এলেও পানির উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় লঞ্চটি সরানো যায়নি। এতে অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়ে থাকেন এবং খাদ্যসংকটেও ভোগেন, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হলেও বিকেল পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত উদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, যাত্রীদের উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনা নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ঝড়ের মৌসুমে যাত্রীদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।