ঝড়ের কবলে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় লঞ্চ আটকা, যাত্রীদের দুর্ভোগ
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে এক ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমবি সুগন্ধা ডুবোচরে (বগার চর) উঠে যায়। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান লঞ্চের ভেতরে থাকা ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী। তাঁরা সবাই ওই চরে আটকা পড়েছেন, এবং উদ্ধার কাজে বিলম্বের কারণে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাটের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। লঞ্চে চড়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বিমান চন্দ্র আচার্য।
যাত্রীদের বর্ণনা
প্রথম আলোকে বিমান চন্দ্র আচার্য বলেন, "আজ ভোর চারটার দিকে লঞ্চটি লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটের পূর্ব-দক্ষিণের মেঘনা নদী অতিক্রমকালে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এ সময় লঞ্চের মাস্টার ঝোড়ো বাতাসের কারণে লঞ্চের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে লঞ্চটি নদীর ডুবোচরে উঠে পলির সঙ্গে আটকে যায়। ওই চরের নাম বগার চর।" লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা নারী-শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন।
উদ্ধার প্রচেষ্টা ও সমস্যা
বিমান চন্দ্র আচার্য আরও জানান, লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ার কারণে যাত্রীরাও চরে আটকা পড়েন। আজ দুপুরে নদীতে জোয়ার এলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে আটকা পড়ে ছিলেন। তাঁদের অনেকেই না খেয়ে আছেন। বিষয়টি হাতিয়ার কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে।
লঞ্চ আটকে যাওয়ায় সাহায্যের আবেদন জানিয়ে দিনাজ উদ্দিন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁর ফেসবুকে লেখেন, "ঝড়ের কবলে পড়া এমভি সুগন্ধা এখনো নদীতে। নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকার পরও লঞ্চের অবস্থান পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। আশপাশে কোস্টগার্ড বা কোনো বড় লঞ্চ থাকলে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করছি।"
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য হাতিয়ার কোস্টগার্ড, কোস্টগার্ডের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি। পরে বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনা নৌ নিরাপত্তা ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরছে। যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
