বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে দুই শিশুর মৃত্যু, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সন্দেহ
বাঁশখালীতে আগুনে দুই শিশুর মৃত্যু, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট

বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে দুই শিশুর মৃত্যু, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সন্দেহ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার একটি দুর্গম এলাকায় আগুনে পুড়ে দুই শিশু ভাইবোনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা সত্ত্বেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত শিশু দুজন হলো জাহেদা আক্তার (১৪) ও তার ছোট ভাই আব্দুল মালেক (৩)। তারা লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. হাসান ও হালিমা আক্তারের সন্তান। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লটমনি এলাকার জেএমবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত একটি বেড়ার ঘরে এই পরিবারটি বসবাস করতেন। হালিমা আক্তার ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন, আর মো. হাসান অন্য জায়গায় কর্মরত ছিলেন।

মা-বাবা দুজনই সন্তানদের ঘরে রেখে কাজে বের হলে, বিকেলের দিকে ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ঘরটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, ততক্ষণে দুই শিশু পুড়ে মারা গেছে।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

বাঁশখালী থানার রামদাশহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী জানান, 'আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্গম এলাকা হওয়ায় লাশ উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লেগেছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, 'বাঁশখালী-সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় আমাদের কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে এ ঘটনা ঘটে। আমরা আরও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।'

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। অনেকেই দরিদ্র পরিবারগুলোর নিরাপত্তাহীনতা ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এই দুর্ঘটনা শিশু সুরক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনের গুরুত্বও তুলে ধরে। আশা করা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।