নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং পাইপ ভেঙে পড়ে ৫ বছরের শিশু নিহত
নারায়ণগঞ্জে পাইলিং পাইপ ভেঙে শিশু নিহত

নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং পাইপ ভেঙে পড়ে ৫ বছরের শিশু নিহত

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাইলিং মেশিনের লোহার পাইপ ভেঙে পড়ে এক শিশু নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মুনতাসীর ইসলাম হামজা, যিনি ইয়াছিন নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত ইয়াছিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে। তার পরিবার ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় ডাক্তার মুল্লিকের ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুটির পিতা রুবেল জানান, তাঁর ছেলে সকালে রুটি কিনতে যাওয়ার সময় পাইলিং মেশিনের লোহার পাইপ ভেঙে পড়ে তার ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করে। রুবেল এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন, যা পরিবারের জন্য একটি গভীর শোকের মুহূর্ত তৈরি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও স্থানীয় অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে ওই এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। কাজের সময় হঠাৎ পাইলিং মেশিনের তার ছিঁড়ে লোহার পাইপ নিচে পড়ে যায়। এতে শিশু ইয়াছিন ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং কাজের সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। জানা গেছে, নির্মাণাধীন কাজটির জমির মালিক মিজান এবং ঠিকাদার বাবুল, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। শিশু ইয়াছিনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে, পাশাপাশি দ্রুত বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।