বাগেরহাটের রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১৪ নিহত: তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ নিহত, তদন্ত কমিটি গঠন

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বর-কনেসহ ১৪ জনের মৃত্যু

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও একটি মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিলেন, যারা খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোংলা ফিরছিলেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়িত্ব নির্ধারণ

ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসন শুক্রবার বিকেলে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন কমিটির প্রধান হিসেবে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মেজবাহ উদ্দীনকে নিয়োগ দিয়েছেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের রামপাল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন পরিদর্শক।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, "জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং বিআরটিএর সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, কার অবহেলায় ঘটল, তার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করবে তদন্ত কমিটি।" কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতদের পরিচয় ও আর্থিক সহায়তা ঘোষণা

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, এবং কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু) সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও মাইক্রোবাস চালক নাঈম। শুক্রবার নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল ও খুলনার কয়রা উপজেলায়।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে বর ও কনের দাফনের জন্য ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিআরটিএ থেকে দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিলসহ অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ম অনুযায়ী নিহত ও আহতদের পরিবার পাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পটভূমি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

দুর্ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসে করে মোংলা ফিরছিলেন বরযাত্রীরা। বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উৎসুকতার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে আজও উৎসুক মানুষের সমাগম দেখা গেছে, যেখানে পড়ে থাকা চুষনি, জুতা ও টুকরা কাচ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত কমিটির কাজের উপর স্থানীয়দের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়ক হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখতে পারে।