বর্ষার আগে 'গোধূলি' বৃষ্টিপাত, উত্তপ্ত আবহাওয়ায় স্বস্তি আনবে
বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাত, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'গোধূলি'। এই বৃষ্টিপাত দেশের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) নামক একটি বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকেই এই বৃষ্টিপাত সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করবে।
বৃষ্টিপাতের বিস্তার ও প্রভাব
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, 'গোধূলি' বৃষ্টিপাত প্রায় ৪০-৫০% এলাকায় বজ্রঝড় ও বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত শুক্রবার রাতে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং ১৮ মার্চের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।
বৃষ্টিপাতের সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থা সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে দেখা যাবে বলে তথ্য থেকে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তরাঞ্চল এবং রংপুর বিভাগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এই অঞ্চলগুলোতে নরওয়েস্টার ঝড়ের সাথে বজ্রঝড় ও বিচ্ছিন্ন শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
ঝড়ের গতি ও সতর্কতা
এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে নরওয়েস্টার ঝড় বইতে পারে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মাঝারি থেকে তীব্র বিদ্যুৎ চমকানো এবং বিচ্ছিন্ন শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিডব্লিউওটি একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এই বৃষ্টিপাত থেকে বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি ও আবহাওয়ার সুবিধা
চৈত্র মাসের এই বৃষ্টিপাত কৃষি খাতের জন্য উপকারী হতে পারে। বিডব্লিউওটি বলছে, এই বৃষ্টিপাত দেশের প্রায় ২৫-৩৫% কৃষি এলাকার সেচের চাহিদা পূরণ করতে পারে। মেঘলা আকাশের কারণে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকবে, যদিও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির বিরতিতে সংক্ষিপ্ত আর্দ্রতা অনুভূত হতে পারে।
বিডব্লিউওটি আরও জানিয়েছে, 'গোধূলি' বৃষ্টিপাত ১৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে এবং এর তীব্রতা ১৬ মার্চের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন আনবে এবং কৃষি কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
