ইথিওপিয়ার গামো জোনে ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় গামো জোনে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে আরও ১২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইথিওপিয়া রিজিওনাল স্টেট পুলিশ কমিশন ফেসবুকের একটি বিবৃতিতে এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেছে।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি
গাচো বাবা জেলার যোগাযোগ প্রধান আবেবে আগেনা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশকেই কাদার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, দুর্যোগে ঠিক কতটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। গামো জোনের দুর্যোগ মোকাবিলা পরিচালক মেসফিন মানুকা উল্লেখ করেছেন যে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন একজনকে কাদার নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা আশার একটি ক্ষীণ আলো হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতা
দক্ষিণ ইথিওপিয়া রিজিওনাল স্টেটের প্রেসিডেন্ট তিলাহুন কেবেদে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বর্তমান বৃষ্টির মৌসুমকে বিবেচনায় নিয়ে পাহাড়ি ঢাল ও প্লাবনভূমিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এ ধরনের দুর্যোগ পুনরায় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ব আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
গত কয়েক দিন ধরে ইথিওপিয়াসহ পুরো পূর্ব আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন এলাকায় গত শুক্রবারের প্রবল বৃষ্টিতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইথিওপিয়ায় বর্ষাকালে ভূমিধস ও বন্যা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দক্ষিণাঞ্চলেই এক ভয়াবহ ভূমিধসে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি ও তীব্র খরাসহ চরম আবহাওয়ার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এই ঘটনাটি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।



