পাটুরিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যাওয়া সয়াবিন তেলবাহী লরি উদ্ধার
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে অ্যাপ্রোচ বা সংযোগ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া একটি সয়াবিন তেলবাহী লরিটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয় এবং ফায়ার সার্ভিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার যশোর থেকে ২৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেলবোঝাই একটি লরি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে এটি পারাপার হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নেমে উঁচু অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে ওপরে উঠার সময় লরিটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে এটি পেছনের দিকে গিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
এই দুর্ঘটনায় লরির চালক শরীফুল ইসলাম এবং তার সহকারী আহত হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত
খবর পেয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর লরিটি নদী থেকে সফলভাবে উদ্ধার করে পন্টুনে রাখা হয়।
খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, 'নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঘাটের পন্টুন থেকে সড়কে উঠার সংযোগ সড়কটি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে পড়েছে। তেলবোঝাই লরিটি ফেরি থেকে নেমে ওপরের দিকে সড়কে আসার সময় হঠাৎ থেমে যায়। এ সময় গাড়িটি পেছন দিকে নামতে থাকে। চালক ব্রেক ফেল করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি নদীতে পড়ে যায়।'
উদ্ধার পরবর্তী অবস্থা
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, 'পদ্মায় যেখানে লরিটি নিমজ্জিত হয়েছে, সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি ছিল। প্রায় ১৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাহায্যে লরিটি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর ভেতরে থাকা সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।'
এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। উদ্ধারকৃত লরিটি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
