গাজীপুরের মাওনায় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, তিনজন দগ্ধ
গাজীপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড, তিনজন দগ্ধ

গাজীপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, তিনজন গুরুতর দগ্ধ

গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে তিনজন ব্যক্তি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়ের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ড পুরো এলাকাকে অস্থির করে তোলে।

দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয় ও চিকিৎসা

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন রবিউল ইসলাম (২৫), জাকির হোসেন (৩২) এবং মো. ইয়াসিন (৩৭)। ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রাতেই তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রভাব

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আ. সাহিদ সুপার ভিউ নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এই ভবনে ব্যাংকসহ বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ফুলকি চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং ভবনের একাংশে দ্রুত আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যা দৃশ্যমানতা ব্যাহত করে।

আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কিত মানুষ হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন। এই ঘটনার জেরে মাওনা-শ্রীপুর সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যা যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

স্থানীয়দের সচেতনতা ও সাহসী ভূমিকা

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উল্লেখ করেন যে, আগুন বড় আকার ধারণ করতে পারত এবং এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তবে, ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর পেছনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক সচেতনতা ও সাহসী ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের বিপণিবিতানগুলোর ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে থাকা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই তারা সম্মিলিতভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হন, যা বড় ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধে সহায়ক হয়। দ্রুত সময়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

উৎসুক জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ইমরান হাসান বলেন, আগুন লাগার পর সেখানে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়, যা উৎসুক জনতার কারণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বাধা সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় লোকজন উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়ে গাড়ি আসার ব্যবস্থা করে দেন, যার ফলে দ্রুত নির্বাপণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা নূরুল করিম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে ভবনের কিছু অংশ পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনাটি গাজীপুরে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।