ঈদযাত্রার আগে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভয়াবহ অবস্থা: দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির আশঙ্কা
ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিপজ্জনক অবস্থা

ঈদযাত্রার আগে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভয়াবহ অবস্থা: দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির আশঙ্কা

পবিত্র ঈদুল ফিতর এগিয়ে আসছে। শহর থেকে নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের স্রোত ধাবিত হবে গ্রামের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বর্তমান কঙ্কালসার চিত্র আমাদের শঙ্কিত না করে পারে না। খানাখন্দ, দেবে যাওয়া বিটুমিন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক আর অপরিকল্পিত সংস্কারকাজে জর্জরিত এই ৯৭ কিলোমিটার পথ এখন যাত্রী ও চালকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম।

মহাসড়কের বর্তমান বিপজ্জনক চিত্র

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাঙ্গার পর থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়কের কোথাও বিটুমিন উঠে ইটের সুরকি বেরিয়ে পড়েছে, কোথাও আবার মহাসড়কটি এতটাই সরু যে দুটি বড় যানবাহন অতিক্রম করার সময় খাদে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বরিশালের কাশীপুর থেকে রহমতপুর এবং মাদারীপুরের ভুরঘাটা থেকে মস্তফাপুর অংশের খারাপ অবস্থা ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সড়কের ওপর বালুর স্তূপ আর ইটের জোড়াতালি দিয়ে যে ‘সাময়িক মেরামতের’ চেষ্টা চলছে, প্রথম বৃষ্টিতেই তা ধুয়ে যাবে—এমন অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের বহুদিনের।

সংস্কারকাজের সময়জ্ঞান ও দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সংস্কারকাজের সময়জ্ঞান। ঈদযাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে মহাসড়ক বর্ধিতকরণের জন্য রাস্তার পাশে গর্ত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে এমনিতে অপ্রশস্ত এই সড়কে যানবাহনের জটলা তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সওজ কর্মকর্তারা তহবিলসংকটের দোহাই দিলেও প্রশ্ন জাগে—একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সংস্কার কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? গত ছয় মাসেই মাদারীপুর অংশে ছোট-বড় ৪০টি দুর্ঘটনায় ২৩ জনের প্রাণহানি এবং অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ববরণ প্রমাণ করে যে এ সড়ক বর্তমানে কতটা অনিরাপদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যানবাহনের চাপ ও নিরাপত্তা সংকট

সড়কটি মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত, অথচ প্রতিদিন এখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তার ওপর রয়েছে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত যানের অবাধ বিচরণ। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ৪৭ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক। অথচ এই সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা সড়কে যখন অতিরিক্ত গতির বাস পাল্লা দিয়ে চলে, তখন সাধারণ যাত্রীদের জীবন যেন সুতার ওপর ঝুলে থাকে।

তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আহ্বান

আমরা মনে করি, ঈদযাত্রার আগে নামমাত্র জোড়াতালি দিয়ে দায়সারা কাজ বন্ধ করতে হবে। বর্তমান সংকট নিরসনে অন্তত ১০ দিনের মধ্যে সব খানাখন্দ ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করতে হবে এবং ঈদের সময় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সতর্কসংকেত এবং পর্যাপ্ত পুলিশি টহল নিশ্চিত করা জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার বিকল্প নেই। দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।