ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জনের প্রাণহানি, মোটরসাইকেল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত

ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জনের প্রাণহানি, মোটরসাইকেল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান হিসেবে উঠে এসেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৪৭৭ জন নিহত ও এক হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার বিস্তারিত

সড়কপথে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১,১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ছয়টি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে, যা পরিবহন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র

দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের সর্বনিম্ন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্যগুলো সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অঞ্চলভিত্তিক কৌশল প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোটরসাইকেল ও জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকি

সমিতির তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে মোটরসাইকেল, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ। ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। এই হিসাবে নিহতদের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতদের ১১.৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৪২.৬৩ শতাংশ হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, যা সড়ক অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের তাগিদ দেয়।

এই পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, দেশে পরিবহন নিরাপত্তা একটি জরুরি ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নিয়মকানুন প্রয়োগ করা অত্যাবশ্যক। ঢাকা বিভাগের মতো উচ্চ জনঘনত্বের অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই প্রতিবেদনটি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছে।