ফেনীর পরশুরামে গাছ চাপায় চা–দোকানি নুর করিমের মৃত্যু, পুলিশের তদন্ত চলছে
ফেনীতে গাছ চাপায় চা–দোকানির মৃত্যু, পুলিশ তদন্তে

ফেনীর পরশুরামে গাছ চাপায় চা–দোকানির মৃত্যু, পুলিশ তদন্তে

ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক চা–দোকানি গাছের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. নুর করিম খোকন, যিনি ৪০ বছর বয়সী ছিলেন এবং পরশুরাম পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরপাথর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পরশুরাম উপজেলার বাউরপাথর হনালুবাগান এলাকায় সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নুর করিম গাছের নিচে চাপা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তি সড়কের পাশে একটি গাছ কাটছিলেন। সন্ধ্যায় দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নুর করিম ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন অর্ধেক কাটা গাছটি হঠাৎ করেই তার ওপর ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

দুর্ভাগ্যবশত, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর করিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়েছেন। নুর করিম পরশুরাম বাজারের হাসপাতাল মোড় এলাকায় একটি চা–দোকান পরিচালনা করে সংসার চালাতেন, যা এখন তার অনুপস্থিতিতে শূন্য হয়ে পড়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নুর করিমের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সড়কের পাশে গাছ কাটার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যদি যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হতো, তাহলে এই মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো যেত।

ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় এই ধরনের দুর্ঘটনা বিরল নয়, তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা জনসচেতনতা বাড়াতে এবং নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে উৎসাহিত করছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা।