সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারিয়ে তিন কন্যা নিয়ে দিশাহারা গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার
স্বামী হারিয়ে তিন মেয়ে নিয়ে দিশাহারা সুমাইয়া আক্তার

সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারিয়ে তিন কন্যা নিয়ে দিশাহারা গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শায়েস্তানগর এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক সালাহ উদ্দিন (৪০) নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

পরিবারের একমাত্র আশ্রয়ের মৃত্যু

সালাহ উদ্দিনের বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে। গতকাল সোমবার সকালে জানাজা শেষে তাঁর লাশ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বিলাপ করতে করতে জানান, তাঁর স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্কুলপড়ুয়া তিন মেয়ে খাদিজা আক্তার (১৪), তানহা আক্তার (৯) ও জান্নাতের (৫) ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা।

সুমাইয়া আক্তার বলেন, "তিন মেয়েকে নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব, কীভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব, তা ভেবে পাচ্ছি না। স্বামীর মৃত্যু আমাদের জীবনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।" তাঁর এই বক্তব্য পরিবারের বর্তমান হতাশাজনক অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়।

দুই প্রজন্মের দুঃখের গল্প

সালাহ উদ্দিনের মা মালেকা বেগমের কথায় উঠে এসেছে আরেকটি করুণ দিক। তিনি বলেন, "আমার স্বামী মারা গেছেন দুই বছর হলো। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে সালাহ উদ্দিন পরিবারের হাল ধরেছিলেন। এখন ছেলেও মারা গেলেন। পুত্রবধূ, তিন নাতনি ও আমার জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।" এই পরিবারে দুটি প্রজন্ম ধরে ট্র্যাজেডি চলছে, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

দুর্ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আবদুল হালিম জানান, নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ হ্যান্ডট্রাক্টরের চালক সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত হ্যান্ডট্রাক্টরটি জব্দ করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের মাধ্যমে, যা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

সালাহ উদ্দিনের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারকেই নয়, পুরো সম্প্রদায়কেই শোকস্তব্ধ করেছে। তাঁর তিন কন্যার শিক্ষা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব এখন অনিশ্চিত। সুমাইয়া আক্তারের মতো অসংখ্য পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জন হারিয়ে অনুরূপ সংকটে পড়ছেন, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো উন্মোচন করে।

এই ঘটনা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহায়তা ছাড়া সুমাইয়া আক্তার ও তাঁর তিন মেয়ের পক্ষে এই সংকট কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।