চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ছয় দোকান পুড়ে ছাই
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাজারের স্টেশন রোডে অবস্থিত একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরন
ক্ষতিগ্রস্ত আলী আশ্রাফ মার্কেটের মালিক নুরুন্নবী দাবি করেছেন, তাদের মার্কেটে মোট ১২টি দোকান রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি এই অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ফার্নিচারের দোকান
- টাইলস ও স্যানিটারির দোকান
- হার্ডওয়্যারের দোকান
- পাইপের দোকান
অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম ও স্থানীয়দের ভূমিকা
খবর পাওয়ার পরপরই হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং তারা দ্রুততার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পুরো মার্কেটটি রক্ষা পেয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনটি দোকান বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাকি দোকানগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং স্থানীয় এলাকাবাসী মিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী অধ্যক্ষ মো. আলমগীর কবির পাটোয়ারী জানান, আগুন লেগেছে দেখামাত্রই তারা প্রথমে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসকে কল করেন। বিদ্যুতের সংযোগ দ্রুত বন্ধ করা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে মার্কেটটিকে রক্ষা করতে সহায়তা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং তারা দাবি করেছেন, বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সামান্য অসতর্কতার কারণেই এমন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
