সাতক্ষীরায় ভূমিকম্পে তিনজন আহত, মাটির দেয়াল ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সাতক্ষীরা জেলা আকস্মিকভাবে কেঁপে উঠেছে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে সংঘটিত এই ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্প টের পেয়ে আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, অনেকেই শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
এই ভূমিকম্পে তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহতরা হলেন:
- শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার ফয়জুন্নেছা (৭৫)
- ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী এলাকার আরিফুল ইসলাম (১৮)
- আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওলভাঙ্গী এলাকার আঁখি আক্তার (২০)
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যেখানে ফয়জুন্নেছা ভর্তি আছেন এবং বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
ভূমিকম্পে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটির ঘর আংশিক ধসে পড়েছে, ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে, এবং দেয়াল, ছাদ ও পিলারসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রমজাননগর ইউনিয়নের সোনাখালি এলাকার শফিকুল ইসলামের মাটির ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দেয়ালে ফাটল ও ধস পড়েছে।
স্থাপনা ও পরিবেশের উপর প্রভাব
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শ্যামনগর পৌরসভার নূর কম্পিউটার মার্কেটের পাশে অবস্থিত তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসের ভবনে ফাটল ধরেছে, এবং একই এলাকার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ভবনেও ফাটল দেখা গেছে। গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালি এলাকায় একটি মসজিদে ফাটল ধরার পাশাপাশি ভেতরের টাইলস খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ভূমিকম্পের সময় চুনকুড়ি নদীর পানি ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল, তবে ভাটা থাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মসজিদে নামাজের সময় অনেকে ভীত হয়ে বেরিয়ে গেছেন এবং জীবনে এমন কম্পন আগে কখনো দেখেননি।
ব্যবসায়ী ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বাজারের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কম্পনের সময় হুড়োহুড়ি করে তারা তাদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। শ্যামনগর পৌরসভা এলাকার নকিপুর বাজারের এক কর্মচারী পলাশ সাহা বলেন, প্রথমে তারা বুঝতে পারেননি, পরে মার্কেটের ভবন কাঁপতে দেখে দৌড়ে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়ান, যেখানে আশপাশের দোকান ও মসজিদ থেকে মানুষজন বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিবৃতি
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৪, যা মাঝারি মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করছে।
