সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ভাঙনে ৫-৭টি বাড়ি নদীগর্ভে
সিলেটে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ৫-৭টি বাড়ি নদীগর্ভে

সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ৫-৭টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে কুশিয়ারা নদীর আকস্মিক ভাঙনে ৫ থেকে ৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

কীভাবে ঘটলো এই ভাঙন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মিরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে ফাটল দেখা দেয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর পাড় ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং ৫ থেকে ৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে তলিয়ে যায়। বাড়িগুলোর সাথে প্রচুর গাছপালা ও গৃহস্থালি সামগ্রীও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "মিনিট কয়েকের মধ্যেই সবকিছু নদীতে তলিয়ে গেল। আমরা প্রাণ নিয়ে বের হতে পেরেছি, কিন্তু কোনো জিনিসপত্র বাঁচাতে পারিনি।"

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অবস্থা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবুল, মুসলিম, আবুল খায়ের, হারুন, আব্দুল ও কাহেরের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে, যা তাদের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাড়িঘর ও মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের কাছে ৫টি বাড়ি ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সংখ্যার খবর প্রচারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের জন্য স্থান পরিদর্শনে যাব। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হচ্ছে।"

গোলাপগঞ্জের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস জানান, একই এলাকায় প্রায় ৫০ ফুট সড়ক গত বছর নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। তখনই প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা অনুমোদন না পাওয়ায় কোনো মেরামত কাজ করা সম্ভব হয়নি।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ

বিডব্লিউডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একটি কারিগরি দল শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

এই সর্বশেষ ভাঙন কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই এখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, নদীর পাড়ের আরও অংশ কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ভেঙে পড়তে পারে, যা তাদের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ।