ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা এবং বেশ কয়েকটি জেলায় আজ শুক্রবার সকালে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ রিখটার স্কেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ থেকে উৎপত্তি
এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলা শহরের কাছাকাছি এলাকাকে। ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে, এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ বলে বিবেচিত হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা দপ্তরগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কলকাতাবাসীর অভিজ্ঞতা: ভবন কেঁপে উঠল, মানুষ রাস্তায়
কলকাতার সল্টলেকের একটি বহুতল আবাসন ভবনের বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী এক কিশোর জানায়, কম্পন এতটাই জোরালো ছিল যে সম্পূর্ণ ভবনটি নড়ে উঠেছিল। সে বলে, "আমি প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ জোরে দরজা খোলা-বন্ধ করছে, কিন্তু পরে বুঝতে পারি এটি ভূমিকম্প।"
অন্যদিকে, কলকাতার বেহালার বাসিন্দা এক তরুণী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, "আমার পুরো বিছানা হঠাৎ করেই কাঁপতে শুরু করেছিল। আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করে মায়ের কাছে দৌড়ে যাই। এটি আমার জীবনের প্রথম ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা ছিল।"
ইএসপিএনে কর্মরত অণ্বেষা ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, "সম্ভবত আমার জীবনে অনুভূত হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন এটি। বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে এটি স্থায়ী ছিল। ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। ঘরের তাক থেকে বই ও অন্যান্য জিনিসপত্র পড়ে গেছে। সবার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি।"
অফিস ও আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক
কলকাতা নগরের বিভিন্ন অফিস ও বাণিজ্যিক ভবনের বাইরে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। কম্পন শুরু হতেই কর্মীরা ও বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়রা জানান, কম্পন প্রায় ১০-১৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল, যা অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, এই ভূমিকম্পটি ভারতীয় উপমহাদেশের টেকটোনিক প্লেটের চলনের ফলাফল হতে পারে। তারা সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্পের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন:
- ভবনের ভিতরে থাকলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন
- বাইরে থাকলে উঁচু ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি বা গাছ থেকে দূরে থাকুন
- ভূমিকম্প শেষ হওয়ার পর ভবনে ফেরার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
এই ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশ ও ভারতের এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্পরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
