কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে বিস্ফোরণ: তদন্ত কমিটি গঠন, ১৫ জন আহত
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি অনুমোদনহীন এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০টি ট্যুরিস্ট জিপ ও তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যসহ ১৫ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাপ, ধোঁয়া ও আগুনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। পাশের আদর্শ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিভিন্ন স্থানে ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, গ্যাস পাম্পের পাশেই পর্যটকবাহী জিপের একটি বড় গ্যারেজ ছিল, যেখানে প্রায় ৪০টি জিপ পার্কিং করা ছিল। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এর মধ্যে অন্তত ৩০টি জিপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তাণ্ডবে পুরো গ্যারেজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি বসতঘরও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য
ক্ষতিগ্রস্ত জিপের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়াই মাস আগে তৈরি করা তার জিপটি আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বসতঘর হারানো মুন্নী বেগম বলেন, প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণ ও নগদ তিন লাখ টাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষম ট্যাংক ঘিরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। অনুমোদন ছাড়া মাত্র তিন দিন আগে চালু হওয়া পাম্পটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিবর্তিত জায়গা দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা এন আলম এই এলপিজি গ্যাস পাম্পটি গড়ে তোলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এন আলম দাবি করেছেন, তিনি বৈধ অনুমোদন নিয়েই পাম্পটি স্থাপন ও চালু করেছেন। তিনি আহতদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশে আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
