কক্সবাজারে গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণে আগুন, ১০ জন দগ্ধ ও ৩০ গাড়ি পুড়ে গেছে
কক্সবাজারে গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণে আগুন, ১০ জন দগ্ধ

কক্সবাজারে গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণে ব্যাপক আগুন, ১০ জন আহত ও ৩০ গাড়ি ধ্বংস

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় বুধবার রাতে একটি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে আশপাশের ঘরবাড়ি ও একটি গ্যারেজে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনাটি শুরু হয়ে দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সম্প্রতি চালু হওয়া এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব দিকে অবস্থিত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সন্ধ্যায় পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়। প্রথমে কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়। সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশের বাসস্থান ও একটি গ্যারেজে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, গ্যাসপাম্পের পাশে থাকা একটি গ্যারেজে অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে গেছে। এই গাড়িগুলো মেরামতের জন্য গ্যারেজে রাখা হয়েছিল। গ্যারেজের কর্মচারী নুরুল আলম জানান, পাম্প থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে একে একে ৩০টির বেশি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ধ্বংস হয়ে গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত নয়টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনে বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং গ্যারেজের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা

অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

ঘটনার কারণ ও প্রতিক্রিয়া

কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান ঘটনাস্থল থেকে জানান, এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েক দিন আগে চালু করা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয়, যা রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।

এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। ঘটনাটি কক্সবাজার শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।