চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে মোটর পার্টস ব্যবসায়ীর মৃত্যু, নিহত বেড়ে পাঁচ
চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে মোটর পার্টস ব্যবসায়ীর মৃত্যু

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে মোটর পার্টস ব্যবসায়ীর মৃত্যু, নিহত বেড়ে পাঁচ

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), যিনি পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন। আজ বুধবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর মাধ্যমে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার ক্রমবিকাশ

গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। বিস্ফোরণে বাসায় থাকা নয়জন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে সোমবার শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহানের মৃত্যু হয়। পরদিন মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে সাফায়াতের। এছাড়া গতকাল শাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির ও সামিরের স্ত্রী আয়েশা আকতারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় চারজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'সকালে শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ অন্য চারজন শঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।'

তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ

বিস্ফোরণটি কী কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নার চুলা থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।'

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, 'কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

নিহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী আজ সকালে বলেন, শাখাওয়াতের লাশ কুমিল্লায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই লাশটি দাফন করা হবে। এই ঘটনায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয় সম্প্রদায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে।