লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৯ দোকান পুড়ে ছাই
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের কামারহাট বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্ট এই আগুনে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় ও স্থান
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে তারাবির নামাজের সময় হঠাৎ করেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান থেকে আগুন লাগার খবর প্রথমে পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রমতে, গ্যাসের চুলা মেরামতের সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার সাহা জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। দুটি ইউনিট প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। তবে ঘটনাস্থলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় তাদের যেতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ছাড়াও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাথমিক হিসাবে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত ও সহায়তা
অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষের হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ফায়ার সার্ভিসের অফিসার রনজিত কুমার সাহা বলেন, "আগুনের সঠিক সূত্রপাত সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব"। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দোকানে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশের দোকানগুলোতেও আঘাত হানে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
