বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু, লামা উপজেলায় ঘটনা
বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

বান্দরবানে বন্যহ�াতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু, লামা উপজেলায় শোকের ছায়া

বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বন্যহাতির আক্রমণে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন ক্যচিং মং মার্মা (৫৯), যিনি স্থানীয়ভাবে একজন কৃষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বন্যপ্রাণী-মানুষ দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে লামা উপজেলার ৩নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিশডেবা ডলুঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ক্যচিং মং মার্মা নিজের ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছিলেন। হঠাৎ করে বন্যহাতির একটি দল আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ চালালে তিনি হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নিহতের পরিচয় ও পরবর্তী অবস্থা

নিহত ক্যচিং মং মার্মা বাচিং কারবারী পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম বাচিং কারবারী এবং মায়ের নাম হ্লাচিং মার্মা। ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে রাত ৮টায় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে লাশটি হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে, এবং পরিবারের সদস্যরা শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, "হাতির আক্রমণে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা, এবং আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বন্যহাতির সাথে মানুষের সংঘাত এড়াতে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ

বান্দরবান অঞ্চলে বন্যহাতির উপদ্রব একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কৃষি জমি ও বনাঞ্চলের সীমানা সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বন উজাড় ও আবাসস্থল সংকটের কারণে হাতিরা মানুষের বসতির দিকে চলে আসছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানব-প্রাণী দ্বন্দ্ব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। এলাকাবাসীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।