চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে চতুর্থ মৃত্যু, গুরুতর আহত পাঁচজন
চট্টগ্রাম বিস্ফোরণে চতুর্থ মৃত্যু, আহত পাঁচজন

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে চতুর্থ মৃত্যু, গুরুতর আহত পাঁচজন

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়শা আক্তার (৩০) মারা যান। তিনি মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেনের পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির আহামেদের স্ত্রী ছিলেন।

মৃতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল

এ ঘটনায় মোট চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে শাখাওয়াত হোসেন (৪৯) পরিবার নিয়ে থাকতেন। বিস্ফোরণে বাসায় থাকা নয়জনই দগ্ধ হন।

নিহতদের মধ্যে শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান সোমবার মারা যান। আজ মঙ্গলবার তাঁর ছেলে সাফায়াত, পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির এবং সামিরের স্ত্রী আয়শা আক্তার মারা গেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের অবস্থা গুরুতর

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও পাঁচজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তার শাওন বিন রহমান জানান, আয়শা আক্তার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান। তাঁর শরীর পুরোটাই অর্থাৎ শতভাগ দগ্ধ ছিল এবং তিনি আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।

বিস্ফোরণের কারণ এখনো অস্পষ্ট

এদিকে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) পক্ষ থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনও একই কথা বলেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

আহতের ব্যবসায়িক অংশীদারের বক্তব্য

আহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী বলেন, ‘রান্নাঘরের পাশে করিডরটিতে এয়ারকুলার ছিল। কিছু পুড়ে গেছে, কিছু অক্ষত। কমপ্রেসর আমি দেখিনি। রান্নাঘরের জানালা খোলা, সেখানে গ্যাস জমার প্রশ্ন আসে না। গ্যাসের বিস্ফোরণে পুরো ভবনের সব দরজা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর।’

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় শোকাহত এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।