চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে কিশোরের মৃত্যু, আগেই মা নিহত
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে কিশোরের মৃত্যু, মা আগেই নিহত

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে কিশোরের মৃত্যু, আগেই মা নিহত

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ১৬ বছর বয়সী কিশোর শাওনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণে একদিন আগেই তার মা নূর জাহান আক্তার রানি নিহত হন।

শাওনের শরীরে ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছিল

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, ‘শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তিনি গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিস্ফোরণে আহত পরিবারের আরও সাত সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের সকলের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

পরিবারের সাত সদস্য এখনও হাসপাতালে

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত পরিবারের সাত সদস্য এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের সকলেরই গুরুতর পোড়া ক্ষত রয়েছে এবং অবস্থা সংকটাপন্ন। এই সদস্যদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শাওনের পিতা কুমিল্লার বাগমারা গ্রামের ব্যবসায়ী

শাওনের পিতা শাখাওয়াত হোসেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামের একজন মোটর যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী। পরিবারটি চট্টগ্রামের হালিশহরে বসবাস করছিলেন। এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটে।

গ্যাস বিস্ফোরণের কারণ তদন্তাধীন

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনে কোনো রকম ফুটো বা চুলার সমস্যার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার পরই সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের শোক ও সহানুভূতি

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্যাস লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর জোর দিয়েছেন।