পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় মা ও মেয়ে নিহত, আহত ভাগনে ও আরেক মেয়ে
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও তাঁর কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য ও আরেক মেয়ে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর দেবীগঞ্জ পৌরসভার নতুন বন্দর এলাকায় দেবীগঞ্জ-সোনাহার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন দেবীগঞ্জ পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার আজাদ হোসেনের স্ত্রী মমতা বেগম (৩৬) ও তাঁর মেয়ে মুনতাহা (৫)। এ ঘটনায় মমতা বেগমের আরেক মেয়ে মোবাশ্বিরা (৫) ও ভাগনে মনিরুল ইসলাম (৩০) আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মমতা বেগম তাঁর দুই যমজ মেয়ে মুনতাহা ও মুবাশ্বিরাকে নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার-গজপুরি এলাকায় বাবার বাড়িতে ইফতার মাহফিলে গিয়েছিলেন। ইফতার মাহফিল শেষে রাতে ভাগনে মনিরুল ইসলামের মোটরসাইকেলে দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন মমতা।
এ সময় তাঁরা দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের বন্দরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী নাদের পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা চারজনই সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন চারজনকেই উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতা বেগম ও তাঁর মেয়ে মুনতাহাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া মুবাশ্বিরা ও মনিরুল ইসলাম সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশি ব্যবস্থা
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় যাত্রীবাহী বাসটির চালক মাহাবুল ইসলামকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে ও ভাগনের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
