কুমিল্লায় বিদেশগামী যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থেকে বিদেশগামী যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসের সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন শাহীন মিয়া (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম (১৫)। শাহীন মিয়া উপজেলার চান্দলা চারিপাড়া এলাকার নায়েব আলী মেম্বারের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোবাসের ব্যবসা পরিচালনা করে নিজেই গাড়ি চালাতেন। অপরদিকে, মো. ইব্রাহিম চান্দলা হুরারপাড় এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং বিদেশগামী যাত্রী মেহেদী হাসানের ছোট ভাই।
দুর্ঘটনায় ইব্রাহিমের পিতা জয়নাল আবেদীনসহ গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। জয়নাল আবেদীনের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে সেহরি খেয়ে শাহীন মিয়া চান্দলা হুরারপাড় এলাকা থেকে চুক্তিভিত্তিক এক বিদেশগামী যাত্রী ও তার সহযোগীসহ ৬-৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকা যাওয়ার পথে গৌরীপুর এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লরির সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাস দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক শাহীন মিয়া ও মো. ইব্রাহিম নিহত হন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহত শাহীন মিয়ার ভাই মিন্টু মিয়া বলেন, "আমার ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। বহু বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।" শাহীন মিয়া দুই সন্তানের জনক; তার বড় ছেলে দশম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
অন্যদিকে, নিহত ইব্রাহিমের বড় ভাই মেহেদী হাসান দুর্ঘটনার পর অন্য গাড়িতে করে বিমানবন্দরে পৌঁছে বিদেশ যাত্রা করেন। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
