রাজধানীতে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর দগ্ধ
গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ চারজন দগ্ধ, অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: শিশুসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি মর্মান্তিক ঘটনায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

দগ্ধদের পরিচয় ও অবস্থা

দগ্ধরা হলেন শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২), তাদের তিন বছরের ছেলে রুহান এবং রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

দগ্ধের পরিমাণ: শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের ৩৫ শতাংশ এবং অপুর ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও কারণ

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরে জমে ছিল, যা আগুন লাগার পর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন। এই ঘটনায় ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়রা দ্রুত জরুরি সেবার সাথে যোগাযোগ করে।

দগ্ধ শেখ রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে, আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সহায়তা করছেন।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা বার্তা

এই ঘটনা গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা ও নিয়মিত চেকআপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:

  • গ্যাসের চুলা ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
  • লিকেজ সন্দেহ হলে দ্রুত জরুরি সেবার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
  • বাড়িতে আগুন নিভানোর সরঞ্জাম রাখা জরুরি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছে এবং ভবনের গ্যাস লাইন পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে।