ট্রাকচালক মামার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু
ট্রাকচালক মামার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু

ট্রাকচালক মামার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে ট্রাকচালক মামার সঙ্গে বের হয়েছিল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৪ বছর বয়সী কিশোর জাহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর তার বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে সে ফিরল লাশ হয়ে। গত শনিবার ভোরে কুমিল্লা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকে মুহ্যমান করে তুলেছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদুলের আকস্মিক মৃত্যু

জাহিদুল ইসলাম ছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিমের ছেলে। স্থানীয় সাঁকোয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার স্বপ্নগুলো ম্লান হয়ে গেল। নিহত জাহিদুলের বড় ভাই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, তিন দিন আগে তাঁদের মামা ট্রাকচালক সোহেল রানার সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘুরতে যায় জাহিদুল। মামার ট্রাকেই থাকত সে, এবং পাঁচ দিন পর বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল। গত শুক্রবার রাতে ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়, যেখানে ট্রাকের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল জাহিদুল। দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল ভোরে কুমিল্লা এলাকায়, যখন ট্রাকটি আরেকটি ট্রাককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ঘটনাস্থলেই জাহিদুলের মৃত্যু হয়, এবং পুলিশ দ্রুত গিয়ে লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শোকাহত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

মামার বর্ণনায় দুর্ঘটনার পটভূমি

ট্রাকচালক মামা সোহেল রানা বলেন, "ট্রাকে মালামাল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়, এবং প্রায়ই রাস্তাতেই রাত কাটাতে হয়। অনেক নতুন এলাকা দেখা যায়, যা ভাগনের কৌতূহল মেটানোর জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছিল। এ কারণেই সে আমার সঙ্গে এসেছিল, এবং আজ রোববার আমাদের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল।" তার কথায়, এই দুর্ঘটনা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনা, যা সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম এই দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে এবং মামলার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং যানবাহন চালনায় সতর্কতার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। জাহিদুলের পরিবার ও বন্ধুরা তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত, এবং স্থানীয় স্কুলে তার স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।