পাকিস্তানের করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬, আহত ১৩
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে একটি মর্মান্তিক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। এ দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় ও স্থান
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে করাচির সোলজার বাজার এলাকার গুল রানা কলনিতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের করাচি শাখার প্রধান হাসান খান স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ভোর চারটার দিকে তিনতলা ভবনটিতে বসবাসকারী লোকজন সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় ভবনটি ধসে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে।
প্রাথমিক কারণ ও তদন্ত
হাসান খান আরও উল্লেখ করেছেন, 'প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণ করছি যে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।' তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন যে শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে তা মেরামত বা ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অতীতের অনুরূপ ঘটনা ও ভবনের ঝুঁকি
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেও করাচির উপশহর লিয়ারিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়েছিল। সেখানেও ২৭ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছিলেন। করাচির অনেক ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। নগর প্রশাসন ইতোমধ্যে শহরের প্রায় ৬০০ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, তালিকাভুক্ত ভবনগুলো দুর্বলভাবে নির্মিত এবং যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে, যা আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এই ঘটনা শহরের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষার অভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সরকারি পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
