কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিকসহ ছয় পরিবার সর্বস্বান্ত
চান্দিনায় আগুনে সাংবাদিকসহ ছয় পরিবার সর্বস্বান্ত

কুমিল্লার চান্দিনায় মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিকসহ ছয় পরিবার সর্বস্বান্ত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় গভীর রাতে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে লেলিহান আগুনের শিখা দেখা দেয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দাউদাউ করে জ্বলে উঠে একের পর এক ঘর, যাতে ছয়টি পরিবার সম্পূর্ণ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

আগুনের উৎপত্তি ও বিস্তার

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতার কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েন।

ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৬টি বসতঘর ও ৩টি পাকাঘর ভস্মীভূত হয়েছে। একটি ভবনের দরজা-জানালা পুড়ে গেছে এবং পাশের আরেকটি ভবনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক কালবেলার চান্দিনা প্রতিনিধি আকিবুল ইসলাম হারেছ। তিনি বলেন, "ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি আগুন পুরো ঘর গ্রাস করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাব-কিছুই বের করতে পারিনি। চোখের সামনে সব পুড়ে গেল।"

প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

খবর পেয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে; কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম পাটোয়ারী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও সঞ্চয় মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এই ঘটনায় পুরো এলাকা চিৎকার-আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা এখনও আতঙ্কে রয়েছেন এবং প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছেন। আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া ও তাপে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হয়েছে বলে জানা গেছে।