কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে আগুন: ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিটের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ
কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে আগুন, ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে

কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে আগুন: ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিটের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে একটি কাঠের দোকানে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে লাগা আগুনের ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার শাহজাহান হোসেন জানান, রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো হয়েছে, যা প্রথমে রাত ১০টা ২৮ মিনিটে খবর পাওয়ার পর থেকে একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।

আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তার

শাহজাহান হোসেনের মতে, আগুনের সূত্রপাত হয় এসএ পরিবহনের পাশের একটি দোকান থেকে, যা দ্রুত আশেপাশের কাঠের অন্যান্য গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন যে, পাঁচতলা ‘এল’ আকৃতির ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলায় হাগিজ ডায়াপারের গুদাম অবস্থিত ছিল, যা আগুনের দ্রুত বিস্তারে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ‘আশেপাশে কাঠের অন্যান্য গুদাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।’

ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস প্রথমে চারটি ইউনিট পাঠায়, কিন্তু পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে মোট ১০টি ইউনিট কাজে লাগানো হয়। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘আমরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগুন নেভানোর পর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও সতর্কতা

এই ঘটনা রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকায় আগুনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

  • দোকান ও গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা নিশ্চিত করুন।
  • নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা করুন এবং ত্রুটি সংশোধন করুন।
  • আগুনের সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর ব্যবস্থা রাখুন।

এই ঘটনাটি শহুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরেছে, এবং কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।