চাঁদপুরের মতলব সদরে গুদামে আগুন, ধোঁয়ায় পাঁচজন অসুস্থ
চাঁদপুরের মতলব সদর উপজেলার একটি দোতলা ভবনের নিচ তলায় অবস্থিত গুদামঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজারের কাঠ বাজার এলাকায় এই গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আগুনের তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
আগুনের কারণ ও উদ্ধার অভিযান
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মেহেদী হাসান তুহিনের মতে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে নিচতলার গুদামে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভবনে ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, বা কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতি নির্দেশ করে।
আগুনের খবর পাওয়ার পর মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় তলার ফ্লোর কাঠের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অসুস্থ ব্যক্তিদের তালিকা ও চিকিৎসা
আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী সঙ্গীতা (১৫), অন্তরা (১৫), রনি হাসান (১৩), ব্যবসায়ী লক্ষন (৩৫), এবং একটি স্থানীয় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পলাশ (৩২)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের সময় ভবনের দোতলায় একটি কোচিংয়ে ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন আটকে পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় জানালার গ্রিল কেটে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর সবাইকে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। শিক্ষার্থী অন্তরার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি চারজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানান, আগুনের সময় শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী দ্রুত সাড়া দিয়ে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। এই ঘটনা গুদাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা তুহিনের মতে, ভবনে কোনো ফায়ার লাইসেন্স বা সেফটি সরঞ্জাম না থাকা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত চলছে, এবং আগুনের সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও পরিবারগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর জন্য।
