জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, তিন মিটার সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কতা, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি আবেদন

জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির হুমকিতে উত্তাল উপকূল

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় ইওয়াতে উপকূলের কাছে আজ সোমবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে তিন মিটার বা ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি হতে পারে। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যা টোকিও শহরের মতো শত শত কিলোমিটার দূরের অঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে, যেখানে বড় বড় ভবন কেঁপে উঠেছিল।

সুনামির প্রথম ঢেউ আঘাত হানায় জরুরি সতর্কতা জারি

ভূমিকম্পের প্রায় ৪০ মিনিট পর ইওয়াতের কুজি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার বা ৩১ ইঞ্চি উচ্চতার একটি সুনামির ঢেউ আঘাত হানে বলে জেএমএ নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ সুনামির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জনগণকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে বলেছে, 'সুনামির ঢেউ বারবার আঘাত হানতে পারে, তাই সতর্কতা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থান ত্যাগ করবেন না।'

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে বন্দরের ফুটেজ ও সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে ইওয়াতের কয়েকটি বন্দরের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে, এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন যে এলাকায় আরও ভূমিকম্প হতে পারে। এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা দল গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'যেসব এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেসব স্থানের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সরকার ভূমিকম্পে কেউ হতাহত হয়েছে কি না বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনাটি জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে, যেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প ও সুনামির মুখোমুখি হতে হয় দেশটিকে। আবহাওয়া সংস্থার দ্রুত সতর্কতা ও সরকারের জরুরি পদক্ষেপ জনসুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।