মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ডুবে মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ব্যক্তি ও ঘটনার বিবরণ
নিহতের নাম মো. আশরাফ আলী (৭০), যিনি আশাই মিয়া নামেও পরিচিত। তিনি তেঙ্গরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাঙ্গারহাট-আকুয়া এলাকায় একটি রিং বাঁধের পাশে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানি এলাকাটি কয়েক দিন ধরে প্লাবিত করে রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আশরাফ আলী নিজ বাড়ির আশপাশে জমে থাকা বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে ভেসে যান। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে খবর দেন। পরে তার ছেলে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে।
বাঁধ ভাঙা ও বন্যা পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার রাতে রাজনগরের আকুয়া এলাকায় মানু নদীর একটি বড় অংশের বাঁধ ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। শক্তিশালী স্রোত আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত করে। আশরাফ আলী সেই রাতে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন।
তেঙ্গরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, “আশরাফ আলীর মৃত্যুর খবর অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলাকাটি বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও প্রচার চালিয়ে প্রতিটি পরিবারকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। বন্যাকবলিত এলাকায় এমন মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনগরে মানু নদীর পানি উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বাড়তে থাকায় তেঙ্গরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও হরিপাশা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে নদীর সুরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বন্যায় আটকা পড়েছেন।
তেঙ্গরা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহিমপুর, কাছারি, একমধু, কান্দিরকুল ও পণ্ডিতনগর। এছাড়া রামভদ্রপুর, শালন, পাইকপাড়া, দেফলাউরা, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, তাগারপুর ও ভাঙ্গারহাটের বাসিন্দারাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
রাজনগর উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বন্যায় আক্রান্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে পানীয় জল, গবাদি পশুর খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় কিছু বাসিন্দা মানু নদীর সুরক্ষা বাঁধের উঁচু অংশে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে চলে গেছেন।



