যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রাজধানী কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত এএফপি সাংবাদিকরা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও ভূমিকম্পের তীব্রতা টের পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও গভীরতা
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে এবং এর গভীরতা ছিল ২০৮.৩ কিলোমিটার (১২৯.৪ মাইল)।
কাবুলে ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। একজন এএফপি সাংবাদিক জানিয়েছেন, একটি অভ্যন্তরীণ দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বলখ ও বাদাখশান প্রদেশেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই প্রদেশগুলো তাজিকিস্তান ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশের সীমান্তবর্তী। পূর্ব দিকে নানগারহার ও খোস্ত প্রদেশেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানে ভূমিকম্প একটি সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালা বরাবর এলাকায়, যেখানে ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের মিলন ঘটে।
পূর্ববর্তী ভূমিকম্পের ঘটনা
চলতি বছরের এপ্রিলে বাদাখশান প্রদেশে ৫.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১২ জন নিহত হয় এবং দেশটির অনেক এলাকা কেঁপে ওঠে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দেশটির পূর্বে ৬.০ মাত্রার একটি অগভীর ভূমিকম্প পাহাড়ি গ্রামগুলো ধ্বংস করে দেয় এবং ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। তার কয়েক সপ্তাহ পর উত্তর আফগানিস্তানে ৬.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়।
২০২৩ সালে ইরান সীমান্তের কাছে পশ্চিম হেরাতে এবং ২০২২ সালে পূর্ব নানগারহার প্রদেশে বড় ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ মারা যায় এবং হাজার হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়।
দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত গ্রামীণ দেশটির অনেক বাড়িই নিম্নমানের নির্মাণশৈলীর কারণে দুর্বল। পাহাড়ি আফগানিস্তানে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো অতীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাধা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে দূরবর্তী গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা এমনকি দিনও লেগে যেত।



